বাবা যখন ছোটো

By (author) আলেক্সান্দর রাস্কিন,ননী ভৌমিক Price: 150 TK

এই বইয়ের জন্মকথাটা বলি শোনো। আমার এক মেয়ে আছে-সাশা। এখন অবশ্য দিব্যি বড়সড়ো হয়ে উঠেছে সে, নিজেই বলে, ‘আমি যখন ছোট্ট ছিলাম...’ তা এই সাশা যখন ছিল একেবারেই ছোট্ট তখন ভারি ভুগত সে। কখনো ইনফ্লুয়েঞ্জা, কখনো টনসিলাইটিস। তারপর কানের ব্যথা। তোমাদের যদি কখনো কান কটকট রোগ হয়ে থাকে, তাহলে নিজেরাই বুঝবে সে কী যন্ত্রণা। আর যদি না হয়ে থাকে, তাহলে বুঝিয়ে বলা বৃথা, কেননা সে বোঝানো অসম্ভব।

একবার সাশার কানের যন্ত্রণা খুব বাড়ল, সারা দিন-রাত সে কাঁদল, ঘুমোতে পারছিল না। আমার এত কষ্ট লাগছিল যে নিজেরই প্রায় কান্না এসে গিয়েছিল। নানা রকম বই পড়ে শোনাচ্ছিলাম আমি, নয়ত মজার মজার গল্প বলছিলাম। বলছিলাম ছোটোবেলায় কী রকম ছিলাম আমি, নতুন বল ছুড়ে দিয়েছিলাম মোটর গাড়ির নিচে। গল্পটা সাশার ভারি ভালো লাগল। ভারি ভালো লাগল যে তার বাবাও একদিন ছোট্ট ছিল, দুষ্টুমি করত, কথা শুনত না, শাস্তি পেত। কথাটা মনে ধরল তার। তারপর থেকে যেই কান কটকট করত অমনি সাশা ডাকত, ‘বাবা, বাবা, শিগ্গির! কান কটকট করছে, বলো না ছোটোবেলায় তুমি কী করতে!’ আর ওকে যেসব কথা শুনিয়েছিলাম সেগুলোই তোমরা এখন পড়বে। গল্পগুলো একটু মজার, মেয়েটির রোগের যন্ত্রণা ভোলাতে হচ্ছিল তো। তাছাড়া লোভ, বড়াই, ন্যাকামি জিনিসগুলো যে কত খারাপ সেটাও মেয়েকে বোঝাতে চেয়েছিলাম বৈকি। তবে ভেবো না যে আমি সারা জীবনই ছিলাম অমনি লোভী, ন্যাকা। খুঁজে খুঁজে শুধু খারাপ ঘটনাগুলোই বেছেছি। আর নিজের জীবনে তেমন ঘটনা না পেলে, অন্য কোনো বাবার জীবন থেকে নিলেই-বা কে আটকায়। সবাই তো একদিন ছোটোই ছিল। মোট কথা, গল্পগুলো বানানো নয়, সবই সত্যি।

এখন সাশা বড় হয়েছে, ভোগে সে এখন কম, নিজে নিজেই বড় বড় মোটা মোটা বই পড়ে।

তবে মনে হলো, একজনের বাবা ছেলেবেলায় কী করত সেটা শুনতে অন্য ছেলেমেয়েদেরও ভালো লাগতে পারে।

এটুকুই আমার বলবার কথা। তবে আরেকটি জিনিস আছে, সেটা বলতে চাই গোপনে। বইটি কিন্তু অসমাপ্ত। তার শেষটা আছে তোমাদের সকলের নিজের নিজের সংসারে। কেননা প্রত্যেকেরই তো বাবা আছে আর ছোটোবেলায় তিনি কী করতেন সেটা সবাই শোনাতে পারেন। পারেন মা-ও। বলতে কি, আমি নিজেই সে গল্প শুনতে ভারি উৎসুক।

এবার তোমাদের সকলের সুখ আর সুস্বাস্থ্য কামনা করে বিদায় নিই!

তোমাদের 

আ রাস্কিন